নীল আকাশের চিঠি
— অভিজিৎ ঘোষ
আজ সকালে
নীল আকাশ একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
খামে কোনো ঠিকানা ছিল না,
ছিল শুধু একফালি রোদ
আর কয়েকটি সাদা মেঘের স্বাক্ষর।
চিঠিতে লেখা ছিল—
“এত ব্যস্ত হয়ে কোথায় চলেছ?
একবার মাথা তুলে দেখো,
আমি প্রতিদিনই
তোমার অপেক্ষায় থাকি।”
আমি অবাক হয়ে পড়লাম।
শেষ কবে
আকাশকে ভালো করে দেখেছি,
শেষ কবে
বাতাসের সঙ্গে কথা বলেছি,
শেষ কবে
নিঃশব্দে সূর্যাস্তের রঙ
হৃদয়ে জমিয়ে রেখেছি—
মনে করতে পারলাম না।
জীবনের তাড়াহুড়োয়
আমরা ক্যালেন্ডারের তারিখ মনে রাখি,
কিন্তু ভুলে যাই
গাছের নতুন পাতার জন্মদিন,
ভোরের প্রথম আলোর উৎসব,
অথবা সন্ধ্যার নরম নীল বিষণ্নতা।
চিঠির শেষে
একটি মাত্র বাক্য ছিল—
“স্বপ্ন দেখো,
কারণ আকাশের কোনো সীমানা নেই।”
আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
চিঠিটি আবার পড়লাম।
মনে হলো,
আকাশ কখনও আমাদের কাছ থেকে
কিছু চায় না।
সে শুধু বিস্তৃত হতে শেখায়,
ক্ষমা করতে শেখায়,
বারবার ভেঙে পড়েও
আবার আলোয় ভরে উঠতে শেখায়।
সন্ধ্যা নামল।
তারারা একে একে
আকাশের খামে জ্বলে উঠল।
আমি চিঠিটা
হৃদয়ের ভাঁজে রেখে দিলাম।
হয়তো আগামীকাল
আবারও নতুন কোনো বার্তা আসবে—
একটি রংধনুর রঙে,
একটি বৃষ্টির ফোঁটায়,
অথবা ভোরের পাখির ডাকে।
ততদিন আমি অপেক্ষা করব,
কারণ জানি—
যে মানুষ আকাশের চিঠি পড়তে শেখে,
সে কখনও একেবারে একা থাকে না।